মিয়ানমার জান্তা সরকার হাজার হাজার বন্দির সাজা হ্রাস ও অভিযোগ প্রত্যাহারের ঘোষণা

**মিয়ানমার জান্তা সরকার হাজার হাজার বন্দির সাজা হ্রাস ও অভিযোগ প্রত্যাহারের ঘোষণা**

* আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে মিয়ানমারের জান্তা সরকার প্রায় আট হাজার ৬৬৫ জন ব্যক্তিকে নমনীয়তার ঘোষণা দিয়েছে।
* এর মধ্যে ৩,০৮৫ জনের কারাদণ্ড কমানো হয়েছে যারা ‘ভয় ছড়ানো বা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ছিলেন।
* ৫,৫৮০ জন পলাতক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
* মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ‘নকল গণতন্ত্র’ হিসেবে সমালোচনা করছে।
* রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি কবে থেকে শুরু হবে এবং অং সান সু চি এই ক্ষমার আওতায় পড়বেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।

**মিয়ানমার জান্তা সরকার হাজার হাজার বন্দির সাজা হ্রাস ও অভিযোগ প্রত্যাহারের ঘোষণা**

আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে মিয়ানমারের জান্তা সরকার সেনা শাসনের বিরোধিতার অভিযোগে আটক বা পলাতক প্রায় আট হাজার ৬৬৫ জনের বিরুদ্ধে নমনীয়তার ঘোষণা দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানানো হয়।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই ঘোষণার আওতায় ৩,০৮৫ জনের কারাদণ্ড কমানো হয়েছে। এই ব্যক্তিরা ‘ভয় ছড়ানো বা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ছিলেন। এছাড়াও ৫,৫৮০ জন পলাতক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে, এদের মধ্যে কতজন রাজনৈতিক বন্দি এবং তাদের মুক্তি কবে থেকে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলাকালীনও আগামী ডিসেম্বর থেকে নির্বাচন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। এটিকে তারা ‘স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা’ হিসেবে দাবি করছে।

তবে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ‘নকল গণতন্ত্র’ বলে সমালোচনা করছে। তারা বলছে, নির্বাচন মুক্ত ও সুষ্ঠু হবে না কারণ স্বাধীন গণমাধ্যম নেই এবং অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন বিলুপ্ত ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)-র অধিকাংশ নেতা আটক রয়েছেন।

বার্মা ক্যাম্পেইন ইউকের পরিচালক মার্ক ফারমানার এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, এটি বন্দিদের জন্য একটি ভালো খবর। তবে তিনি আরও বলেছেন যে, সামরিক সরকার নির্বাচনকে বৈধতা দিতে রাজনৈতিক বন্দিদের ব্যবহার করছে, যেন সংস্কারের একটি ভান তৈরি করা যায়।

স্বাধীন পর্যবেক্ষক সংগঠন অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত ২২ হাজার ৭০৮ জন রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই সেনা সরকারের মুখপাত্র জাও মিন তুন জানান, আগামী ২৮ ডিসেম্বর ভোটে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই ক্ষমা প্রদান করা হয়েছে। ইয়াঙ্গুনের কুখ্যাত ইনসেইন কারাগারের এক কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা এপিকে জানিয়েছেন, মুক্তির প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হবে, তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা বা নাম তিনি জানাননি। অতীতে এমন ক্ষমার ঘোষণার পর বন্দি মুক্তি পেতে কয়েকদিন সময় লেগেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ইনসেইন কারাগারের বাইরে অনেকেই জড়ো হন তাদের বন্ধু বা স্বজনদের মুক্তির অপেক্ষায়। এই গণক্ষমার আওতায় ৮০ বছর বয়সী সাবেক নেত্রী অং সান সু চি থাকবেন কিনা, তা এখনও জানা যায়নি। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন এবং ২৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *