**ভারতে বন্যপ্রাণীর হামলায় বৃদ্ধি, জনমনে আতঙ্ক**
* মহারাষ্ট্রের পুনে অঞ্চলে চিতাবাঘের আক্রমণে মানুষের মৃত্যু অব্যাহত, স্থানীয়রা বিশেষ সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করছে।
* মহারাষ্ট্রের ২৩৩টি গ্রামকে অতি সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
* কর্ণাটকে বাঘের হামলায় তিনজনের মৃত্যু, ফলে ব্যান্দীপুর ও নাগরহোল টাইগার রিজার্ভে সাফারি বন্ধ রাখা হয়েছে।
* বিশেষজ্ঞরা বন্যপ্রাণীর মুখোমুখি হলে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।
* দেশজুড়ে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
**ভারতে বন্যপ্রাণীর হামলায় বৃদ্ধি, জনমনে আতঙ্ক**
ভারতে বন্যপ্রাণীর হামলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মহারাষ্ট্রের পুনে এবং কর্ণাটকের বিভিন্ন অঞ্চলে বাঘ ও চিতাবাঘের আক্রমণে মৃত্যুর ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জনজীবনে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মহারাষ্ট্রের পুনে অঞ্চলের পিম্পারখেড ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলিতে চিতাবাঘের উপদ্রব এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ঘন আখক্ষেত চিতাবাঘের লুকানোর আদর্শ স্থান হয়ে ওঠায় এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে। গত ৩ নভেম্বর ১৩ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তা অবরোধ করে নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে। এই বছর মোট ৯ জন এবং গত পাঁচ বছরে এই অঞ্চলে অন্তত ১৭ জন চিতাবাঘের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে, বন দপ্তর গ্রামবাসীদের হাতে লোহার কাঁটা লাগানো বিশেষ কলার তুলে দিয়েছে, যা মূলত গলা রক্ষায় ব্যবহৃত হয়। পুনের পিম্পারখেড এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলিতে অনেককেই এখন এই কলার পরে কৃষি কাজ করতে যেতে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া, বিভিন্ন এলাকায় AI-নির্ভর স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যা চিতাবাঘের গতিবিধি শনাক্ত করতে সক্ষম। ইতিমধ্যে ২৩৩টি গ্রামকে অতি সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কর্ণাটকের সর্গুর ও এইচডি কোটে এলাকায় বাঘের হামলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর ব্যান্দীপুর ও নাগরহোল টাইগার রিজার্ভে সমস্ত সাফারি কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মাইসুরু অঞ্চলের পর্যটন মূলত এই সাফারির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় স্থানীয় ট্যুরিজম ব্যবসায়ীরা, যেমন গাইড, গাড়িচালক, রিসোর্ট ও হোমস্টের মালিকরা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা সাফারি পুনরায় চালু করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। আক্রমণকারী দুটি বাঘকে ইতোমধ্যে আলাদা করে বন্দি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিজমি বৃদ্ধি এবং মানুষের বনভূমি সম্প্রসারণের ফলে বন্যপ্রাণীর সঙ্গে মানুষের সংঘাত বেড়েই চলেছে। প্রাণীরা হিংস্র হয়ে মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে। ভ্রমণকারীদের বনের ধারে একা না যাওয়া, নির্দেশিকা মেনে চলা এবং বিপদের সম্মুখীন হলে স্থির থাকার মতো সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের পুনে এবং কর্ণাটকের ব্যান্দীপুর ও নাগরহোল অঞ্চলে এই ঘটনাগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের মনে ভয় সঞ্চার করেছে। এই পরিস্থিতিতে মানুষের জীবনযাত্রা প্রকৃতি এবং বন্যপ্রাণীর সঙ্গে এক অদ্ভুত টানাপড়েনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে বেঁচে থাকার লড়াই এবং ভয়ের অনুভূতি একসঙ্গে বিদ্যমান।
