রামেকে সাপে কাটা ও বিষবিদ্যা ওয়ার্ড: এক মাসে মৃত্যু শূন্য

**রামেকে সাপে কাটা ও বিষবিদ্যা ওয়ার্ড: এক মাসে মৃত্যু শূন্য**

* রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে দেশের প্রথম সাপে কাটা ও বিষবিদ্যা ওয়ার্ড চালু হয়েছে।
* ওয়ার্ডটি চালু হওয়ার পর থেকে গত এক মাসে সাপে কাটা কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।
* এই বিশেষায়িত ওয়ার্ডে সাপের বিষজনিত জটিলতার তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।
* ওয়ার্ড চালুর পূর্বে সাপে কাটা রোগীদের মধ্যে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য ছিল।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে দেশের প্রথম সাপে কাটা ও বিষবিদ্যা ওয়ার্ড চালু হওয়ার পর থেকে এক মাসে সাপে কাটা কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। এই বিশেষায়িত ওয়ার্ডটি চালু করা হয়েছিল রাজশাহী অঞ্চলে সাপে কাটার ঘটনা ও মৃত্যুর হার কমাতে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওয়ার্ড চালুর পর সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধিত হয়েছে। পূর্বে রামেক হাসপাতালে সাপে কাটা অনেক রোগীর মৃত্যু হতো।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৫ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত রামেক হাসপাতালে মোট ৭৯৫ জন নন-ভেনোমাস (বিষহীন) সাপে কাটা রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ৩৪১ জন ভেনোমাস (বিষধর) সাপের কামড়ের রোগী ভর্তি হন। এদের মধ্যে শুধুমাত্র রাসেলস ভাইপারের কামড়ে ভর্তি হয়েছেন ৬৮ জন। ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত এই ৬৮ জনের মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ওয়ার্ড চালুর পর গত এক মাসে (২৪ অক্টোবর থেকে ২৪ নভেম্বর) এ বিশেষ ওয়ার্ডে ১১১ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে ৭৫ জন বিষহীন এবং ৩৬ জন বিষধর সাপের কামড়ের রোগী ছিলেন। এই সময়ে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি, যা চিকিৎসকদের মতে রামেকে একটি নতুন মাইলফলক।

গত ২৩ অক্টোবর রামেক হাসপাতালে ১২ শয্যার এই বিশেষায়িত সাপের কামড় ও বিষবিদ্যা ওয়ার্ডটি চালু করা হয়। হাসপাতালের পুরোনো ক্যান্টিনের জায়গায় তৈরি হওয়া এই এইচডিইউ (হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট) ওয়ার্ডে সাপের বিষজনিত জটিলতা, যেমন – শ্বাসকষ্ট, হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতা, স্নায়বিক সমস্যার তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। ওয়ার্ডটিতে ৮ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী রোগীর জন্য শয্যা রয়েছে।

রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, পূর্বে রাসেলস ভাইপারের কামড়ে মৃত্যুর হার ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ। এখন সমন্বিত ও দ্রুত চিকিৎসা, সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও নার্স এবং পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সরবরাহের কারণে মৃত্যুহার অনেক কমে এসেছে। রোগী ওয়ার্ডে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা শুরু হওয়ায় রোগীর বেঁচে থাকার হারও বেড়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহাম্মদ কালবেলাকে বলেন, “দেশের প্রথম সাপের কামড় ও বিষবিদ্যা ওয়ার্ড আমরা চালু করেছি। এর আগে এখানকার চিকিৎসক ও নার্সদের ‘স্নেক বাইট ন্যাশনাল গাইডলাইন’ অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আগে বড় ওয়ার্ডের কোনায় সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসা হতো, অনেক সময় দেরিও হতো। এখন পৃথক ওয়ার্ড থাকায় রোগীরা দ্রুত ও নিরাপদ চিকিৎসা পাচ্ছেন।”

তিনি আরও বলেন, “ওয়ার্ডটি এখন খুব ভালো কাজ করছে। গত এক মাসে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থার কারণে রোগীরা দ্রুত সুস্থ হচ্ছেন। আশা করছি, ভবিষ্যতেও এটি সফলভাবে চলবে। আগে রামেকে সাপে কাটা রোগীদের ৪০ শতাংশই মারা যেত, কিন্তু এ বিশেষ ওয়ার্ড চালুর পর মৃত্যুহার শূন্যে নেমে এসেছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *