পাবনায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, অস্ত্র হাতে ভাইরাল যুবকের পরিচয়

**পাবনায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, অস্ত্র হাতে ভাইরাল যুবকের পরিচয়**

* ঈশ্বরদীর সাহাপুর ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
* এ ঘটনায় পাবনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থীসহ উভয় দলের প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
* সংঘর্ষের একটি ভিডিওতে অস্ত্র হাতে গুলি করতে দেখা যাওয়া যুবকের নাম তুষার মন্ডল, তিনি জামায়াতের কর্মী বলে জানা গেছে।
* পাবনা জেলা জামায়াতের আমির আবু তালেব মন্ডল অবশ্য ভাইরাল হওয়া যুবকের জামায়াত কর্মী হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
* পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

**পাবনা:** পাবনা-৪ আসনের ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের জগির মোড় ও চর আলহাজ মোড় এলাকায় বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় পাবনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলসহ উভয় দলের প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে এক যুবককে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষের দিকে গুলি করতে দেখা যায়। অস্ত্র হাতে ভাইরাল হওয়া এই যুবকের নাম তুষার মন্ডল বলে পরিচয় মিলেছে। তিনি ঈশ্বরদী পৌর শহরের ভেলুপাড়া এলাকার তাহের মন্ডলের ছেলে এবং পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলের ভাতিজা মামুন মন্ডলের অন্যতম সহচর ও জামায়াতের সক্রিয় কর্মী বলে জানা গেছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফ দাবি করেছেন, জামায়াত কর্মী তুষার মন্ডল প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর গুলি চালিয়েছেন এবং এর ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তুষার জামায়াত নেতা তালেব মন্ডলের ভাতিজা মামুন মন্ডলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অন্যতম সহযোগী।

সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুর রহমান হামদু মেম্বার জানিয়েছেন, জামায়াতের পূর্ব নির্ধারিত কোনো গণসংযোগ ছিল না এবং গণসংযোগে কেউ অস্ত্র নিয়ে আসে না। তিনি অভিযোগ করেন, মূলত পুরোনো ঘটনার সূত্র ধরে তালেব মণ্ডল ও তার সমর্থকরা মক্কেল মৃধা ও তার ছেলের ওপর হামলা করেছে। তার দাবি, তালেব মণ্ডল নিজে গাড়ি থেকে অস্ত্র বের করে তার কর্মীদের হাতে তুলে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও পাবনা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেছেন, জামায়াত নেতাকর্মীরা গাড়িতে করে অস্ত্র নিয়ে গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। পরে ঐক্যবদ্ধ গ্রামবাসীর ধাওয়ার মুখে তারা নিজেদের গাড়িবহর ফেলে পালিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, এ সময় সশস্ত্র জামায়াত কর্মীরা সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি করে সেই দায় বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।

তবে, অস্ত্র হাতে ভাইরাল হওয়া ওই যুবক জামায়াতের কর্মী নন বলে দাবি করেছেন পাবনা জেলা জামায়াতের আমির আবু তালেব মন্ডল। তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অস্ত্র হাতে ওই যুবক তাদের দলের কেউ নন।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানিয়েছেন, বিএনপি-জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *