**রিয়া সেনের ক্যারিয়ার: নীরব সংগ্রাম ও নতুন উপলব্ধি**
* অভিনেত্রী রিয়া সেন তার ক্যারিয়ারের গতি কমে আসার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।
* অল্প বয়সে খ্যাতি এবং বলিউডের গ্ল্যামার-কেন্দ্রিক সংস্কৃতির চাপকে তিনি ক্যারিয়ারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
* বাংলা সিনেমায় নতুনভাবে নিজেকে আবিষ্কার এবং OTT প্ল্যাটফর্মে অভিনয়ের সুযোগ তাকে নতুন কর্মদিগন্ত উন্মোচন করেছে।
* ২০০৫ সালে ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁসের ঘটনাকে তার বলিউড ক্যারিয়ারে প্রভাব সৃষ্টিকারী একটি কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন।
**রিয়া সেনের ক্যারিয়ার: নীরব সংগ্রাম ও নতুন উপলব্ধি**
এক সময়ের আলোচিত বলিউড তারকা রিয়া সেন তার ক্যারিয়ারের গতি কেন থমকে গিয়েছিল, তা নিয়ে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে মুখ খুলেছেন। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, অল্প বয়সে খ্যাতি এবং বলিউডের গ্ল্যামার-কেন্দ্রিক সংস্কৃতির চাপ তার ক্যারিয়ারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে তামিল ছবি ‘তাজমহল’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হওয়া রিয়া দুই দশকের বেশি সময়ে ৩০টির বেশি চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। ‘স্টাইল’, ‘কেয়ামত’, ‘ঝংকার বিটস’, ‘শাদি নম্বর ওয়ান’, ‘আপনা সাপনা মানি মানি’-এর মতো হিট ছবিতে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। বাংলাদেশের সিনেমাতেও তাকে অভিনয় করতে দেখা গেছে।
রিয়া সেন জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি কাজ নিয়ে অত্যন্ত উৎসাহী থাকলেও দ্রুতই বুঝতে পারেন যে তিনি যে ধরনের চরিত্রে অভিনয় করছেন, তাতে স্বচ্ছন্দ নন। তিনি বলেন, “আমি যে চরিত্র করছিলাম, তাতে আমি স্বচ্ছন্দ ছিলাম না। তখন বলিউডে সবকিছুই নির্ভর করত গ্ল্যামারের ওপর – কী পোশাক পরছি, কী মেকআপ করছি এসব নিয়ে চাপ ছিল প্রচণ্ড।” অল্প বয়সেই ‘সাহসী অভিনেত্রী’ তকমা পাওয়াটা তাকে মানসিকভাবে আঘাত করেছিল।
দীর্ঘদিন ধরে গ্ল্যামারাস ইমেজ ধরে রাখার চাপ তাকে ক্লান্ত করে তোলে এবং এক পর্যায়ে তিনি সচেতনভাবে বলিউডের কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।
বলিউডের জন্য যা ‘ক্ষতি’ ছিল, তা বাংলা সিনেমার জন্য ‘লাভ’ হয়ে দাঁড়ায়। ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘নৌকাডুবি’ (২০১১) ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে রিয়া বাংলা সিনেমায় নতুনভাবে নিজেকে আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে ‘জাতিস্মর’, ‘হিরো ৪২০’-এর মতো একাধিক ছবিতে অভিনয় করে তিনি তার অভিনয়শৈলী নতুন করে প্রমাণ করেন। তিনি বলেন, “বাংলা ছবিতে আমি আমার নিজের মতো হতে পেরেছি। পরিচালকরা বুঝতে পেরেছেন আমি কী দিতে পারি।”
স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের উত্থান রিয়ার ক্যারিয়ারে নতুন এক দিগন্ত খুলে দেয়। ‘রাগিণী এমএমএস: রিটার্নস’, ‘পয়জন’, ‘মিসম্যাচ’-এর মতো ওয়েব সিরিজে তাকে দেখা গেছে। রিয়া বলেন, “ওটিটির কাজ আমাকে নানা চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দিচ্ছে। এখানে আমি নিজেকে বেশি মানানসই মনে করি।”
২০০৫ সালে রিয়া সেনের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁস হওয়া নিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। এই ঘটনার পর তিনি অনেক ছবির প্রস্তাব হারান এবং অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি তার বলিউড ক্যারিয়ারকে বড়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।
চলতি বছর রিয়া সেনকে হিন্দি ছবি ‘নাদানিয়া’–তে দেখা গেছে। বর্তমানে তার অভিনীত ওয়েব সিরিজ ‘পরিণীতা’ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
