কফি পানের সর্বোত্তম সময়
* শারীরিক হরমোনের ওঠানামা, ঘুম-জাগার ধরণ এবং ব্যায়ামের সময় বিবেচনা করে কফি পানের সর্বোত্তম সময় নির্ধারণ করা উচিত।
* বিশেষজ্ঞরা সকালে সকাল ৯:৩০ থেকে বেলা ১১:৩০ এর মধ্যে কফি পানের পরামর্শ দিয়েছেন।
* ব্যায়ামের ৩০-৬০ মিনিট আগে কফি পান করলে ক্লান্তি দূর হয় এবং পেশিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
* ক্যাফেইনের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় ঘুমের অন্তত ৬ ঘণ্টা আগে কফি পান করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
কফি পানের সর্বোত্তম সময় নিয়ে বিভিন্ন মত প্রচলিত থাকলেও, বিশেষজ্ঞরা শরীরের প্রাকৃতিক হরমোন কর্টিসলের ওঠানামা, ঘুম-জাগার নিয়ম এবং ব্যায়ামের সময় বিবেচনা করে কিছু নির্দিষ্ট সময়ের ওপর জোর দিয়েছেন।
সকালে কফি পানের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই কফি পান করলে তা ততটা কার্যকর নাও হতে পারে। কারণ ঘুম থেকে ওঠার ৩০-৪৫ মিনিট পর শরীরে কর্টিসলের মাত্রা সর্বোচ্চ থাকে, যা স্বাভাবিকভাবেই দেহকে সজাগ রাখে। এই সময় ক্যাফেইনের প্রভাব কম থাকতে পারে। তাই, সকাল ৯:৩০ থেকে বেলা ১১:৩০ এর মধ্যে কফি পান করলে শরীর ক্যাফেইন ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে বলে তারা মত দিয়েছেন। তবে, যারা ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই কফি পান করেন, তাদের জন্য ক্ষতির কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নিয়মিত কফি পানকারীদের ক্ষেত্রে ক্যাফেইন কর্টিসল বাড়ালেও শরীর ধীরে ধীরে এর সাথে মানিয়ে নেয়।
যারা ব্যায়াম করেন, তাদের জন্য কফি পানের সময় ভিন্ন। যেকোনো ধরনের ওয়ার্কআউট বা খেলাধুলার ৩০-৬০ মিনিট আগে কফি পান করলে ক্যাফেইন শরীরে সর্বোচ্চ মাত্রায় কাজ করে। এর ফলে ক্লান্তি কমতে পারে এবং পেশিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়।
রাতের বেলায় কফি পানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ক্যাফেইনের প্রভাব সাধারণত ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং এর অর্ধেক প্রভাব ৫ ঘণ্টা পরও শরীরে থাকতে পারে। তাই, ঘুমের অন্তত ৬ ঘণ্টা আগে কফি পান বন্ধ রাখা উচিত। এছাড়া, যাদের উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তার প্রবণতা বেশি, তাদের জন্য কফি পান পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে।
সার্বিকভাবে, সবচেয়ে উপকারী সময়ে কফি পান করার জন্য সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা এবং ব্যায়ামের জন্য ওয়ার্কআউটের ৩০-৬০ মিনিট আগে সময়কে উপযুক্ত বলে মনে করা হয়। ঘুমের অন্তত ৬ ঘণ্টা আগে থেকে কফি পান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: হেলথ লাইন।
