শিরোনাম: ভালুকায় কারেন্ট পোকার আক্রমণে আমন ধানের ফলন হ্রাস

**শিরোনাম:** ভালুকায় কারেন্ট পোকার আক্রমণে আমন ধানের ফলন হ্রাস

**সারসংক্ষেপ:**

* ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় কারেন্ট পোকার আক্রমণে রোপা আমন ধানের ফলন আশানুরূপ হয়নি।
* বিশেষ করে ডাকাতিয়া ও কাচিনা ইউনিয়নের কৃষকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
* ছায়াযুক্ত স্থানগুলোতে পোকার আক্রমণ বেশি দেখা গেছে, যার ফলে ধানের গাছ শুকিয়ে গেছে।
* কৃষকরা কীটনাশক ব্যবহার করেও পুরোপুরি ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারেননি।
* কৃষি বিভাগ ব্রি ধান ৫১ জাতের পরিবর্তে ব্রি ধান ১০৩ জাত চাষের পরামর্শ দিয়েছে।

**বিস্তারিত প্রতিবেদন:**

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় রোপা আমন মৌসুমে কারেন্ট পোকার আক্রমণের কারণে কৃষকরা আশানুরূপ ফলন ঘরে তুলতে পারছেন না। চলতি মৌসুমে ধান কাটার কাজ শুরু হলেও, এই পোকার আক্রমণে প্রত্যাশিত ফলন না হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উপজেলার ডাকাতিয়া ও কাচিনা ইউনিয়নের কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ছায়াযুক্ত স্থানগুলোতে এই পোকার আক্রমণ বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।

উপজেলায় বেশ কিছু ছায়াযুক্ত স্থানে ধানের ক্ষেত রয়েছে। এই ছায়াযুক্ত জমিতেই কারেন্ট পোকা (Brown Planthopper – BPH) বেশি সক্রিয় থাকায় ফসলের ওপর এদের আক্রমণ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর ফলে যে পরিমাণ ধান উৎপাদিত হয়েছে, তা কৃষকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। অনেক ক্ষেতেই ধানের গাছ পোকায় আক্রান্ত হয়ে শুকিয়ে সরু হয়ে তারের মতো আকার ধারণ করেছে। ধান কাটার সময় ক্ষতিগ্রস্ত গাছগুলো সারি ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

কাচিনা ইউনিয়নের কাদিগর এলাকার কৃষক শামসুল হক জানান, তিনি এ বছর ২৮ কাঠা জমিতে ধান চাষ করেছেন, কিন্তু কারেন্ট পোকার আক্রমণে প্রত্যাশিত ফলন হয়নি। তিনি সারের ডিলারদের পরামর্শে পাঁচবার কীটনাশক প্রয়োগ করেও পোকার আক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। আরেক কৃষক সোহাগ মিয়া জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছিল, কিন্তু কারেন্ট পোকার আক্রমণের কারণে আশানুরূপ হয়নি। তিনি মনে করেন, পোকার আক্রমণ না হলে কাঠাপ্রতি ৫-৬ মণ ধান পেতেন।

প্রবীণ কৃষক ইব্রাহিম খলিল জানান, ধান চাষে যে পরিমাণ খরচ হয়েছে, সেই খরচও উঠে আসবে কিনা তা নিয়ে তিনি সন্দিহান। কারেন্ট পোকা তার ধান নষ্ট করে ফেলছে। কিছু কৃষক বলেছেন যে, উৎপাদিত ধানে অন্তত তাদের খরচ উঠতে পারে, তবে অনেকেই মনে করছেন যে পুরো খরচও উঠবে না। একদিকে যেমন উৎপাদন খরচের হিসাব রয়েছে, অন্যদিকে ধানে পোকার আক্রমণ ফসলের গুণমান ও পরিমাণ দুটোই কমিয়ে দিয়েছে। বনের পাশে হওয়ায় কিছু জমিতে বেশি ছায়া থাকে, যা ক্ষেত্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। অনেক কৃষক জানিয়েছেন যে, তারা ডিলারের পরামর্শে কীটনাশক প্রয়োগ করে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমাতে পেরেছেন, তবে এটি সার্বিক সমাধান নয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান জানান, এই বছর উপজেলায় ১৯,৯০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং চাষ হয়েছে ১৯,৯১০ হেক্টর জমিতে। উপজেলার ডাকাতিয়া ও কাচিনা ইউনিয়নে বনের পাশে কিছু ছায়াযুক্ত জমি রয়েছে, যেখানে বিপিএইচ-এর আক্রমণ বেশি হয়। মৌসুমের শুরুতেই কৃষি অফিস থেকে একটি স্কোয়াড গঠন করা হয়েছিল। তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছে এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করছে।

তিনি আরও বলেন, ভালুকা উপজেলায় ব্রি ধান ৫১ জাতের চাষ বেশি হয়ে থাকে। এ বছর এই জাতে রোগবালাই ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ বেশি দেখা গেছে। তাই কৃষি বিভাগ কৃষকদের জাত পরিবর্তন করে ব্রি ধান ১০৩ চাষ করার পরামর্শ দিচ্ছে। আগামী মৌসুমে কৃষকরা যেন ব্রি ধান ৫১-এর পরিবর্তে ব্রি ধান ১০৩ চাষ করেন, সেই বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *