নির্বাচনী ইশতেহারে নারী ও শিশু অধিকার অগ্রাধিকার বিষয়ক সংলাপ

**নির্বাচনী ইশতেহারে নারী ও শিশু অধিকার অগ্রাধিকার বিষয়ক সংলাপ**

* আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে নারী ও শিশু অধিকারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্তির দাবিতে খুলনা বিভাগে একটি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
* কোয়ালিশন ফর এডভ্যান্সিং ইক্যুয়ালিটি অ্যান্ড জাস্টিস-এর পক্ষ থেকে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও রূপান্তর যৌথভাবে এই সংলাপের আয়োজন করে।
* সংলাপে বক্তারা অভিযোগ করেন যে, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও নারী ও শিশুদের প্রয়োজন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায় না।
* নারী ও শিশু অধিকার বিষয়ক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ যেমন – সহিংসতা, বাল্যবিয়ে, শিশুশ্রম, মানসম্মত শিক্ষার অভাব, স্বাস্থ্যঝুঁকি, জলবায়ু প্রভাব এবং ওয়াশ সেবায় বৈষম্য মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
* শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি, প্রান্তিক এলাকায় সমতাভিত্তিক শিক্ষাসেবা, শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা, লিঙ্গ-সংবেদনশীল শিক্ষাব্যবস্থা, কিশোরী স্বাস্থ্য এবং উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলোতে জোর দেওয়া হয়েছে।

**খুলনায় অনুষ্ঠিত সংলাপে নারী ও শিশু অধিকারকে নির্বাচনী ইশতেহারে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান**

**খুলনা:** আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে নারী ও শিশু অধিকারের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবিতে খুলনা বিভাগীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোয়ালিশন ফর এডভ্যান্সিং ইক্যুয়ালিটি অ্যান্ড জাস্টিস-এর পক্ষে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ এবং সহযোগী সংস্থা রূপান্তর যৌথভাবে এই সংলাপের আয়োজন করে।

রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম খোকনের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই সংলাপে বক্তারা অভিযোগ করেন যে, নারী ও শিশুরা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে তাদের প্রয়োজনীয়তা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। প্রাথমিক শিক্ষা, মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুমৃত্যু হ্রাসে কিছু অগ্রগতি সাধিত হলেও সহিংসতা, বাল্যবিয়ে, শিশুশ্রম, মানসম্মত শিক্ষার অভাব, কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি, জলবায়ু প্রভাব এবং ওয়াশ (জল, পয়ঃনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যবিধি) সেবায় বৈষম্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিদ্যমান।

সংলাপে শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, প্রান্তিক ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় সমতাভিত্তিক শিক্ষাসেবা নিশ্চিত করা, শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার করা এবং লিঙ্গ-সংবেদনশীল শিক্ষাব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স স্পেশালিস্ট রঞ্জন ঘোষ কোয়ালিশনের পক্ষে এই বিষয়ক একটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

স্বাস্থ্য ও পুষ্টিকে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ হিসেবে আখ্যা দিয়ে অংশগ্রহণকারীরা কিশোরী মেয়েদের পুষ্টি, প্রজনন ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, কমিউনিটি ক্লিনিকের উন্নয়ন এবং ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক সুরক্ষা সেবার জোরদারকরণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি, জলবায়ু-সহনশীল ওয়াশ সুবিধা, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং উপকূলীয় উন্নয়ন বোর্ড গঠনের মতো প্রস্তাবগুলোও আলোচনায় উঠে আসে।

রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘ইশতেহারে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তার বাস্তবায়ন দুর্বল। ভোটারদের দৃষ্টিতে নীতি গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি, যাতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পিছিয়ে না পড়ে।’

বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট-এর প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট ফাতেমা খন্দকার রিমা বলেন, ‘নারী-শিশু সুরক্ষা, বাল্যবিয়ে ও নারী পাচারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আইন বিদ্যমান থাকলেও তার প্রয়োগ প্রায়শই দুর্বল। তাই নতুন প্রতিশ্রুতির চেয়ে বিদ্যমান আইনগুলোর জবাবদিহি ও কার্যকর বাস্তবায়ন এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *