নির্বাচনী সমঝোতার মাধ্যমে আসন প্রাপ্তির কৌশল জামায়াতে ইসলামীর

**নির্বাচনী সমঝোতার মাধ্যমে আসন প্রাপ্তির কৌশল জামায়াতে ইসলামীর**

* জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সমমনা দলগুলোর সাথে আসন সমঝোতার মাধ্যমে ১৫০ আসন জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
* জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টন, অভিন্ন নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি এবং যৌথ প্রচারণার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
* প্রার্থী নির্ধারণের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও জয়ের সম্ভাবনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং দর কষাকষি শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
* ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আসন সমঝোতা সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
* দলটি স্থানীয়ভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেও অন্যান্য দলের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু আসনে পরিবর্তন আসতে পারে।

**জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী কৌশল: সমমনা দলগুলোর সাথে আসন সমঝোতা**

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমমনা দলগুলোর সাথে আসন সমঝোতার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নির্বাচনী কৌশল প্রণয়ন করছে। সূত্রমতে, দলটি ন্যূনতম ১৫০টি আসনে জয়লাভের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে।

জামায়াতে ইসলামী সমমনা দলগুলোর সাথে আসন সমঝোতার আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। বর্তমানে একটি সমন্বয় কমিটি মাঠ পর্যায়ে জরিপ চালাচ্ছে, যেখানে কোন দলের কোন প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরপর যোগ্যতা ও জয়ের সম্ভাবনার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। এই দর কষাকষির প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রত্যাশা করা হচ্ছে, চলতি মাসে না হলেও আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। জোটের মূল নীতি হবে, যে আসনে যে দলের প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকবে, তিনিই মনোনয়ন পাবেন, অন্য দল সমর্থিত হলেও।

জামায়াত এবং তাদের শরিক দলগুলোর মধ্যে কোনো প্রচলিত জোট গঠিত হয়নি, বরং এটি একটি নির্বাচনী বা আসনভিত্তিক সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কৌশল হিসেবে চূড়ান্ত হচ্ছে।

কয়েকটি দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের মতে, জামায়াতসহ আটটি দল নিয়ে গঠিত এই সম্ভাব্য জোটের নির্বাচনী প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে চলেছে। জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টন এবং নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক আসনে জয়লাভের জন্য শরিকদের মধ্যে একটি কার্যকর সমঝোতা স্থাপনকে জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে।

তারা আরও জানান, বর্তমানে আসন ভাগাভাগি, অভিন্ন নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি এবং সম্মিলিতভাবে প্রচার চালানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। জোটের সম্মিলিত প্রস্তুতি এবং দলগুলোর নিজস্ব নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আটটি দলেরই প্রার্থী তালিকা শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে।

নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগেই আসন সমঝোতার প্রক্রিয়া শেষ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামী বেশ আগেই দলীয় প্রার্থীর নাম স্থানীয়ভাবে ঘোষণা করেছে। এখন যেহেতু অন্য কয়েকটি দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে হচ্ছে, এখানে আলাপ-আলোচনার অনেক বিষয় আছে। সেসব বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।”

মাওলানা আব্দুল হালিম আরও বলেন, “কিছু আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণের ভোটে জামায়াতে ইসলামী শতাধিক আসনে জয়লাভ করবে ইনশাআল্লাহ।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *