১৭তম বিজেএস পরীক্ষায় ১৩ সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর গেজেটভুক্ত না হওয়ার অভিযোগ

**১৭তম বিজেএস পরীক্ষায় ১৩ সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর গেজেটভুক্ত না হওয়ার অভিযোগ**

* ১৭তম বাংলাদেশ জুডিশিয়ারি সার্ভিস কমিশন (বিজেএস) পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৩ জন শিক্ষার্থীকে নিয়োগ গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
* আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটে ৮৮ জনের নিয়োগের কথা উল্লেখ থাকলেও, বাদ পড়া ১৩ জনের কারণ জানানো হয়নি।
* ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের কারো বিরুদ্ধেই রাজনৈতিক বিতর্ক বা ফৌজদারি মামলা নেই এবং তারা মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সুপারিশ লাভ করেছেন।
* এ ঘটনায় প্রার্থী, তাদের পরিবার এবং শিক্ষাঙ্গণে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

**১৭তম বিজেএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৩ জন শিক্ষার্থীর নিয়োগ গেজেট থেকে বাদ পড়ার ঘটনা**

১৭তম বাংলাদেশ জুডিশিয়ারি সার্ভিস কমিশন (বিজেএস) পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ জন শিক্ষার্থীকে নিয়োগ গেজেটভুক্ত করা হয়নি। এদের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। দীর্ঘ প্রস্তুতি, কঠিন প্রতিযোগিতা এবং কমিশনের সুপারিশপ্রাপ্তির পরও নিয়োগের গেজেট প্রকাশে তাদের নাম বাদ পড়ায় প্রার্থী ও তাদের পরিবারে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, ১০০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন মোট ১০২ জনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করে। প্রায় ১০ মাস অপেক্ষার পর গত ২৭ নভেম্বর আইন মন্ত্রণালয় যে নিয়োগ-গেজেট প্রকাশ করে, সেখানে মাত্র ৮৮ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। বাকি ১৩ জন শিক্ষার্থীকে কোনো কারণ উল্লেখ না করেই বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে বাদ পড়া শিক্ষার্থীরা চরম হতাশায় ভুগছেন।

সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও গেজেটভুক্ত না হওয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষার্থী হলেন- তানসেনা হোসেন মনীষা, অনিক আহমেদ, মাহমুদুল ইসলাম মুন্না এবং গগন পাল। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিশাত মনি, নাহিম হাসান, মো. রেজাউল ইসলাম ও সাজ্জাদুল হক; গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদিকুর রহমান; চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইমন সৈয়দ; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মামুন হোসেন; বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুব্রত পোদ্দার এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হুমায়রা মেহনাজ।

গেজেটভুক্ত না হওয়া শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের কারো বিরুদ্ধেই কোনো রাজনৈতিক বিতর্ক বা ফৌজদারি মামলা নেই। তারা সম্পূর্ণরূপে মেধা, যোগ্যতা ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিচারক হওয়ার সুপারিশ লাভ করেছেন। তাদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত পরিচয়ের পরিবর্তে আত্মীয়স্বজনের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে গোয়েন্দা রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে, যা তাদের মতে সংবিধান, ন্যায়সঙ্গত প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও সুশাসনের পরিপন্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তানসেনা হোসেন মনীষা বলেন, তিনি ১৭শ বিজেএস পরীক্ষায় ২৫তম মেধাক্রমে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। মেডিকেল পরীক্ষা ও ভেরিফিকেশনসহ সকল প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করার পরও প্রকাশিত গেজেটে তার নাম বাদ পড়েছে। তিনি কোনো প্রকার দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে জড়িত নন বলে উল্লেখ করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইমন সৈয়দ জানান, তার নামেও কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা নেই এবং তিনি কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেননি। গেজেটে নাম না দেখে তিনি হতাশ এবং তার অসুস্থ বৃদ্ধা মা এ ঘটনায় হেনস্তার শিকার হতে পারেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদিকুর রহমান বলেন, তিনি তার অ্যাকাডেমিক জীবনে কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিটিং, মিছিল বা রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন না এবং তার নামে কোনো ফৌজদারি মামলাও নেই। তার পরিবারও কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের সাথে জড়িত নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাহিম হাসান এবং মাহমুদুল ইসলাম মুন্নাও অনুরূপ অভিযোগ করেছেন। তারা বৈষম্য না করে সকলের একসাথে চাকরিতে যোগদানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সরদার কাইসার আহমেদ ফেসবুকে এক পোস্টে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সুব্রত পোদ্দারকে সংগ্রাম, অধ্যবসায়, সততা ও নৈতিকতার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে তার প্রতি কোনো অবিচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবু নাসের মোহাম্মদ ওয়াহিদ বলেন, মেধাকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এমন ঘটনা ঘটেছে, যা সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দিন খান এই ঘটনাকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে বলেন, কেবল আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে চাকরি না হওয়া অসাংবিধানিক। তিনি বলেন, বাবার পরিচয়ের কারণে ছেলের চাকরি না হওয়া বাঞ্ছনীয় নয় এবং কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *