ইতালিগামী বাংলাদেশি যুবকদের লিবিয়ায় আটকে মুক্তিপণ দাবি

**ইতালিগামী বাংলাদেশি যুবকদের লিবিয়ায় আটকে মুক্তিপণ দাবি**

* লিবিয়ার মরুভূমি বা সীমান্তবর্তী কোনো এলাকায় তিন বাংলাদেশি যুবককে আটকে নির্যাতন করা হচ্ছে।
* পাচারকারীরা পরিবারের কাছে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে ৬০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে।
* ভুক্তভোগীরা মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাসিন্দা।
* ভুক্তভোগীদের পরিবার আর্থিক অনটনের কারণে মুক্তিপণ দিতে অক্ষম বলে জানিয়েছে।
* পুলিশ এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

**বিস্তারিত:**

গত কয়েক মাস ধরে দারিদ্র্যের কারণে পরিবারে অভাব মেটানোর লক্ষ্যে অনেক যুবক অবৈধ পথে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ইতালিতে পৌঁছানোর আশায় আগ্রহী যুবকের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই সুযোগে দালালচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যাত্রার আগে বিভিন্ন নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর এসব চুক্তি মানবপাচার ও অমানবিক নির্যাতনে রূপ নিচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মাদারীপুরের শিবচরের তিন যুবককে হাত-পা ও মুখ বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন করতে দেখা গেছে। এই ভিডিও পরিবারে পাঠিয়ে তাদের মুক্তির জন্য পাচারকারীরা মোটা অংকের টাকা দাবি করেছে।

নির্যাতনের শিকার তিনজন হলেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাশকান্দি ইউনিয়নের নাওয়ারা চর শেখপুর এলাকার আলমাছ, সজিব ও সবুজ। ভিডিও দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তারা লিবিয়ার মরুভূমি বা সীমান্তবর্তী কোনো এলাকায় অবৈধভাবে আটক রয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে বারবার ফোন করে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। মুক্তিপণ না দিলে আরও কঠোর নির্যাতন ও মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরিবারগুলো জানিয়েছে, মুক্তিপণ দেওয়ার মতো সামর্থ্য তাদের নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনটি পরিবার জমিজমা বিক্রি করে এবং ধারদেনা করে তাদের সন্তানদের ইতালি যাওয়ার জন্য পাঠিয়েছিল। এখন তাদের স্বপ্ন সন্তানের মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়েছে। নির্যাতনের সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শিবচর থানার ওসি মো. রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এ পর্যন্ত দুজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *