**প্রতিবন্ধী নারীর ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ**
* নওগাঁর বদলগাছীতে এক প্রতিবন্ধী নারীর প্রায় আড়াই বছর ধরে বরাদ্দকৃত ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির স্বামীর বিরুদ্ধে।
* অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন শেরপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং পাহাড়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান, যিনি মহিলা ইউপি সদস্য তহমিনার স্বামী।
* অভিযোগ উঠেছে যে, ভাতার কার্ড করার সময় প্রতিবন্ধী নারীর মোবাইল নম্বরের পরিবর্তে মিজানুর রহমানের নম্বর ব্যবহার করা হয়েছিল এবং সেই থেকে তিনি টাকা তুলে নিচ্ছিলেন।
* বিষয়টি জানাজানির পর ১০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হলেও, ভুক্তভোগী তার প্রাপ্য মোট ভাতার পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
* উপজেলা সমাজসেবা অফিসার এটিকে স্পষ্ট অনিয়ম হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইনগত ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
**সম্পূর্ণ প্রতিবেদন:**
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় প্রায় আড়াই বছর ধরে একজন অসহায় প্রতিবন্ধী নারীর ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা জানাজানির পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি ইতিমধ্যে ভুক্তভোগীকে ১০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ব্যক্তির নাম মিজানুর রহমান। তিনি শেরপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং পাহাড়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তিনি স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য তহমিনার স্বামী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের পাঁচঘরিয়া গ্রামের প্রতিবন্ধী নারী মোসা. মুক্তা (৪০) তার ভাতার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য তহমিনার কাছে জমা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে, ২০২৩ সালের ১লা জুলাই মুক্তার নামে ভাতার কার্ড তৈরি করা হলেও, ভাতাভোগীর মোবাইল নম্বর হিসেবে মুক্তার নম্বর না দিয়ে মিজানুর রহমানের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়। এরপর থেকে নিয়মিতভাবে মিজানুর রহমান ভাতা উত্তোলন করে আসছেন, অথচ ভুক্তভোগী মুক্তাকে এ বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি বা কোনো টাকাও দেওয়া হয়নি।
চলতি নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে নতুন ভাতার আবেদন সংক্রান্ত একটি ঘোষণা সমাজসেবা অফিস থেকে আসার পর মুক্তা অফিসে গিয়ে জানতে পারেন যে, তার নামে প্রায় আড়াই বছর ধরে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। এই খবর শুনে তিনি হতবাক হয়ে যান।
ভুক্তভোগী মুক্তা বলেন, “প্রায় আড়াই বছর আগে মেম্বার তহমিনা আমার কাগজপত্র নিয়েছিলেন। বারবার জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলতেন হয়ে যাবে। কিন্তু আমি কোনো টাকা পাইনি। সমাজসেবা অফিসে কয়েকদিন আগে গিয়ে শুনি, আমার নামে ভাতা নাকি অনেক আগেই হয়েছে, মোবাইল নম্বর আমার না, সেটা মেম্বারের স্বামীর। এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মিজানুর মাস্টার ১০ হাজার টাকা দিতে চেয়েছেন। কয়েকদিন পর পাহাড়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর মাস্টার ও মাসুদ মেম্বার বাড়ি এসে ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। কিন্তু আড়াই বছরে তো প্রায় ৩০ হাজার টাকা হয়। আমার প্রতিবন্ধী ভাতার বাকি টাকা দিল না কেন?”
এই বিষয়ে অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “মোবাইল ফোনে কিছু বলা যাবে না, সাক্ষাতে কথা বলব।” এরপর তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অন্যদিকে, মহিলা সদস্য তহমিনা দাবি করেছেন যে, এটি ভুলবশত হয়েছে এবং এখন তা সংশোধন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, মুক্তার সঙ্গে এই বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রাজিব আহমেদ বিষয়টি সম্পর্কে কালবেলাকে জানান, “এটি স্পষ্ট অনিয়ম। আমরা মোবাইল নম্বর সংশোধন করেছি। আবেদনকারীকে সবসময় নিজের নগদ নম্বর ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি জানিয়েছেন, “এ বিষয়ে লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ পাইনি। যদি সত্য হয়, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
