সংরক্ষিত বনের গাছ বিক্রি: বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

**সংরক্ষিত বনের গাছ বিক্রি: বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ**

* বরগুনার তালতলীতে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনের গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে।
* নিশানবাড়িয়া বিটের কর্মকর্তা হায়দার আলীর বিরুদ্ধে স্থানীয়রা এই অভিযোগ এনেছেন।
* অভিযোগ অনুযায়ী, তার যোগসাজশে প্রায়শই গাছ কাটা হয় এবং সম্প্রতি এক লাখ টাকার গাছ কাটা হয়েছে।
* বিট কর্মকর্তা সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধ করেছেন এবং অর্থের প্রলোভনও দেখিয়েছেন।
* বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

**বরগুনা, তালতলী:** বরগুনার তালতলীতে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিশানবাড়িয়া বিটের বিট কর্মকর্তা হায়দার আলীর যোগসাজশে এই গাছ কাটা হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিট কর্মকর্তা হায়দার আলী প্রথমে কার্যালয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান। এমনকি তিনি অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের প্রভাবিত করার চেষ্টাও করেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিট কর্মকর্তা হায়দার আলী যোগদানের পর থেকেই বনাঞ্চলে গাছ কাটার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেন যে, তার সঙ্গে গাছচোর সিন্ডিকেটের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ রয়েছে। সম্প্রতি নিশানবাড়িয়া বিটের বনাঞ্চল থেকে অন্তত পাঁচটি বড় আকারের কেওড়াগাছ কাটা হয়েছে।

কাটা গাছের শিকড় ও পাশের গাছের আকারের ওপর ভিত্তি করে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিটি গাছের দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রায় এক লাখ টাকার গাছ কাটা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বিট কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই সুযোগ বুঝে গাছগুলো কাটা হয়েছে। এভাবে লোকচক্ষুর আড়ালে বনের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায়শই গাছ কাটা হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলে তারা জানান।

স্থানীয়রা আরও জানায়, বিট কর্মকর্তা হায়দার আলীর বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তিনি প্রতি বছর বনের চরের জমি স্থানীয় জেলেদের কাছে ইজারা দিয়ে হাজার হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি আটক করা জেলের ট্রলার বিক্রি করে দেওয়ারও অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়েছে।

উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মতিউর রহমান বিষয়টি নিয়ে বলেন, বিট কর্মকর্তা হায়দার আলীর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। গাছ কাটার প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালতলীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সেবক মণ্ডল জানিয়েছেন, বিট কর্মকর্তা হায়দার আলীর বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রেঞ্জ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *