**ইরান ফুটবল বিশ্বকাপ ড্র বয়কট করছে ভিসা জটিলতার কারণে**
* যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না পাওয়ায় ইরান ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ড্র অনুষ্ঠান বয়কট করেছে।
* ইরানের ফুটবল ফেডারেশন ফিফাকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে এবং এটি খেলাধুলার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয় বলে উল্লেখ করেছে।
* ফেডারেশন সভাপতি মেহদি তাজ ভিসা না পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম।
* ইরানের জাতীয় দলের কোচ আমির ঘালেনোয়ি সহ চারজন প্রতিনিধি ভিসা পেয়েছেন।
**পূর্ণাঙ্গ সংবাদ**
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না পাওয়ার কারণে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ড্র অনুষ্ঠান বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। দেশটির ফুটবল ফেডারেশন শুক্রবার এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ফেডারেশনের মুখপাত্র রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, তারা ফিফাকে তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা অবহিত করেছেন এবং এটি কোনোভাবেই খেলাধুলার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এই কারণে ইরানি প্রতিনিধিদল বিশ্বকাপ ড্রতে অংশ নেবে না।
ইরানের ক্রীড়া বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ভারজেশ ৩’ মঙ্গলবার জানিয়েছিল যে, ড্র অনুষ্ঠানের জন্য ইরানের প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এই তালিকায় ফেডারেশন সভাপতি মেহদি তাজও রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার এক প্রতিক্রিয়ায় মেহদি তাজ বলেন, এটি একটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তিনি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে বিষয়টি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এই ধরনের আচরণ বন্ধ করতে বলার অনুরোধ করেছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, প্রতিনিধিদলের চার সদস্য ভিসা পেয়েছেন এবং তারা আগামী ৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ড্রয়ে উপস্থিত থাকতে পারতেন। এদের মধ্যে জাতীয় দলের কোচ আমির ঘালেনোয়িও রয়েছেন।
ইরান মার্চ মাসে বিশ্বকাপe যোগ্যতা অর্জন করে, যা তাদের টানা চতুর্থ এবং মোট সপ্তম অংশগ্রহণ। তবে দলটি কখনো নক-আউট পর্বে পৌঁছাতে পারেনি। ফুটবল বিশ্বকাপে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচ সবসময়ই বিশেষ আগ্রহ তৈরি করে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ২-১ গোলে পরাজিত করলে দেশে ব্যাপক আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। ২০২২ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র ১-০ গোলের জয়ে সেই হারের প্রতিশোধ নেয়।
আগামী বিশ্বকাপ যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো আয়োজন করবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজমান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে মোটামুটি শান্ত রয়েছে। তবে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতবিরোধ এখনো বিদ্যমান।
