মাতৃমৃত্যুর ৫ atas শতাংশই প্রসব পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়

**মাতৃমৃত্যুর ৫ atas শতাংশই প্রসব পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়**

* দেশে মাতৃমৃত্যুর হার কমলেও আশাব্যঞ্জক নয়; প্রতি লাখে ১৩৬ মায়ের মৃত্যু হয়।
* মাতৃমৃত্যুর ৫৫ শতাংশই ঘটে প্রসবের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে।
* প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণ নির্ণয়ের জন্য স্বল্পমূল্যের উদ্ভাবন “ঢাকা ড্রেপ” প্রদর্শন করা হয়েছে।
* ৫ atas শতাংশ মাতৃমৃত্যু বাড়িতে ঘটে, এবং প্রায় ৬৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব হয়।
* ২০৩০ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যু হার ৭০-এর কম অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে নেতৃত্ব বিকাশ, জরুরি প্রসূতি সেবা নিশ্চিতকরণ ও শক্তিশালী মনিটরিংয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

**নিউজ আর্টিকেল**

বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) এবং অবসটেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকলিজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি)-এর এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা জানিয়েছেন যে দেশে মাতৃমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও তা এখনও আশাব্যঞ্জক নয়। প্রতি লাখে জীবিত শিশু জন্মের পর ১৩৬ মায়ের মৃত্যু হয়, যার ৫৫ শতাংশই ঘটে প্রসব পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে।

গত বৃহস্পতিবার বিএমএ ভবনের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এই সভায় ওজিএসবি-এর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসী বেগম বাংলাদেশের মাতৃস্বাস্থ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং মাতৃসেবার মান উন্নয়নের জন্য একটি স্বল্পমূল্যের উদ্ভাবন প্রদর্শন করেন, যার নাম “ঢাকা ড্রেপ”। তিনি জানান, এটি প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণ নির্ণয় ও ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হতে পারে এবং লক্ষ লক্ষ মায়ের জীবন বাঁচাতে সক্ষম।

অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসী বেগম ব্যাখ্যা করেন যে, সন্তান প্রসবের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মায়ের ৫০০ মিলিলিটার বা তার বেশি রক্তক্ষরণ হলে তাকে প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণ হিসেবে গণ্য করা হয়। “ঢাকা ড্রেপ” নামক এই উদ্ভাবনটি একটি সহজলভ্য স্বচ্ছ/স্বল্পস্বচ্ছ পলি ব্যাগ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। এটি ত্রিকোণ আকৃতির দাগাঙ্কিত থলি স্বাভাবিক প্রসবের সময়ে ব্যবহার করে প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণ পরিমাপের মাধ্যমে তা নির্ণয় ও কার্যকর চিকিৎসায় সহায়তা করে। এই যন্ত্রটি তৈরিতে মাত্র পাঁচ টাকা ব্যয় হয় এবং নার্স ও মিডওয়াইফরা এটি হাসপাতালে তৈরি করতে পারেন।

সভায় ওজিএসবি-এর আরেক সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফারহানা দেওয়ান বাংলাদেশের মাতৃস্বাস্থ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বিষয়ক তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশে যে সংখ্যক মাতৃমৃত্যু হয় তার ৫ atas শতাংশই বাড়িতে ঘটে। এছাড়া, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পথেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মায়ের মৃত্যু হয়। দক্ষ প্রসবকারী দ্বারা প্রসবের হার ৪২ শতাংশ, এবং দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর দ্বারা কমপক্ষে চারটি প্রসব-পূর্ব সেবা নেওয়ার হার ৩১ শতাংশ। দেশে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার ৬৫ শতাংশ, যার মধ্যে ৪৫ শতাংশ বেসরকারি এবং ১৮ শতাংশ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রসবের হার সরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে চার গুণ বেশি। এছাড়াও, সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে প্রসবের হার দিন দিন বাড়ছে, যার অধিকাংশই হচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৩.১ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মাতৃমৃত্যুর হার ৭০-এর নিচে অর্জন করতে হবে। যদিও এই হার কমেছে, তবে বর্তমানে হ্রাসের গতি স্থিমিত। ভবিষ্যৎ করণীয় হিসেবে বক্তারা নেতৃত্বের বিকাশ, দলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যকর যোগাযোগ বিষয়ক প্রশিক্ষণ, জরুরি প্রসূতি সেবা নিশ্চিতকরণ, প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ, উপকরণ ও মানবসম্পদের প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণ, শক্তিশালী মনিটরিং এবং গণমাধ্যমে মাতৃস্বাস্থ্য সংক্রান্ত ইতিবাচক তথ্য ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ উপস্থাপনের ওপর জোর দেন।

মতবিনিময় সভায় ওজিএসবি-এর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রওশন আরা বেগম, অধ্যাপক ডা. সামিনা চৌধুরী, সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. সাহেলা বেগম চৌধুরী এবং বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি রাশেদ রাব্বি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *