**রেজাউল করিমকে নিয়ে অপপ্রচার: একজন কর্মকর্তার কর্মজীবনের আড়ালে**
* বিসিএস ১৭তম ব্যাচের পুলিশ কর্মকর্তা ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
* তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, নির্যাতন ও অবহেলার অভিযোগ দীর্ঘদিনের, যা পদোন্নতি বঞ্চনা ও কম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে পদায়নের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
* ডিবি প্রধান থাকাকালীন তিনি বাহিনীর ভাবমূর্তি উদ্ধারের চেষ্টা করেন এবং অনিয়ম দূরীকরণে পদক্ষেপ নেন।
* বর্তমানে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করলেও নতুন করে অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন।
* মূলত, একটি রাজনৈতিক দলের নেতার মনোনয়ন স্থগিত হওয়ার ঘটনায় তাকে জড়িত বলে অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে।
**ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিমকে নিয়ে অপপ্রচার**
বিসিএস ১৭তম ব্যাচের পুলিশ কর্মকর্তা রেজাউল করিম ১৯৯৮ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু হয় এবং প্রায় দেড় যুগ তিনি নির্যাতন ও অবহেলার শিকার হন। এর পাশাপাশি, তিনি পদোন্নতি বঞ্চনার শিকার হন এবং পুলিশের কম গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইউনিটে তাকে পদায়ন করা হতো। এমনকি, জরুরি প্রয়োজন সত্ত্বেও তাকে ছুটি দেওয়া হতো না, এমনকি স্বজনদের মৃত্যুর সময়েও তিনি ছুটি পাননি। দীর্ঘ ১৮ বছর এই পরিস্থিতি সহ্য করার পর, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর তাকে ডিআইজি পদে উন্নীত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের পর, রেজাউল করিম ডিবিকে কলঙ্কমুক্ত করার উদ্যোগ নেন। তিনি পুলিশ বাহিনীকে কর্মমুখী করার পাশাপাশি, অপকর্মের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত ডিবিকে পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুনের সময়ের অনিয়মগুলো দূর করার জন্য তিনি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ববণ্টন, কাজের ধরন ও নীতিমালায় তিনি পরিবর্তন আনেন।
এর মধ্যে, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তাকে ডিবি থেকে সরিয়ে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত রাখা হয়। পরবর্তীতে, গত মে মাসে তাকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়।
জানা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রেজাউল রেঞ্জ ডিআইজি হিসেবে ১৩টি জেলাকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেন। তার নেতৃত্বে প্রতিটি জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। অপরাধ দমন ও অপরাধী গ্রেপ্তারে দ্রুত অগ্রগতি দেখা যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যে পুরো রেঞ্জজুড়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে। তিনি মাঠে উপস্থিত থেকে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় তদারকি করেন। এছাড়া, তিনি একাধিক আলোচিত অভিযানের নেতৃত্বও দিয়েছেন।
গত মাসে, মাদারীপুরের শিবচরে একটি বড় রাজনৈতিক দলের বিতর্কিত এক নেতার মনোনয়ন স্থগিত হওয়ার ঘটনায়, ঐ নেতার সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, রেজাউল করিম মল্লিক এই মনোনয়ন স্থগিতের পেছনে ভূমিকা রেখেছেন। এই ধারণাকে কেন্দ্র করেই একটি চক্র এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে শুরু করেছে।
সম্প্রতি, মাদারীপুর জেলা বিএনপির নেতা সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী (লাভলু) ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিককে নিয়ে ছড়ানো মিথ্যা, বানোয়াট ও অশালীন অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি রেজাউল করিমকে একজন শতভাগ সৎ পুলিশ অফিসার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তার কর্মজীবনে কোনো খারাপ কিছু শোনেননি বলে জানান। তিনি আরও বলেন যে, সম্প্রতি শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় দেওয়া হলেও রেজাউলের কঠোর পদক্ষেপে ফরিদপুর এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র তাকে ঘিরে ধরেছে। তিনি সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলেও, একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। পুলিশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তোলা তার ছবি ও ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি তিনি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হুমকি-ধমকিও পাচ্ছেন। এছাড়াও, পারিবারিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও, তিনি দায়িত্ব পালন থেকে পিছিয়ে যাননি। তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে ভুগছেন, তবুও তিনি নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
