একই IMEI নম্বরে ১০ লাখ মোবাইল ফোন: কারসাজির তথ্য

**একই IMEI নম্বরে ১০ লাখ মোবাইল ফোন: কারসাজির তথ্য**

* বাংলাদেশে একই IMEI নম্বরে ১০ লাখ পর্যন্ত মোবাইল হ্যান্ডসেট সক্রিয় থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
* বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) জানিয়েছে, মাত্র ৫টি IMEI নম্বরের বিপরীতে প্রায় ৫০ লাখ হ্যান্ডসেট পাওয়া গেছে।
* IMEI ক্লোন করে অবৈধ ফোন বাজারে ছাড়ার কারণে আর্থিক অপরাধ এবং ফোন চুরি সনাক্তকরণে সমস্যা হচ্ছে।
* ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) চালু হলে এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

**বিস্তারিত প্রতিবেদন**

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকায় একটি সেমিনারে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হক একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে একটি ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি (IMEI) নম্বরের বিপরীতে একটি মোবাইল হ্যান্ডসেট থাকার কথা থাকলেও, ১০ লাখ পর্যন্ত হ্যান্ডসেট সক্রিয় রয়েছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হক আরও জানান যে, বাংলাদেশে মাত্র পাঁচটি IMEI নম্বরের বিপরীতে প্রায় ৫০ লাখ হ্যান্ডসেট পাওয়া গেছে। এর অর্থ দাঁড়ায়, প্রতিটি IMEI নম্বরের বিপরীতে প্রায় ১০ লাখ করে মোবাইল হ্যান্ডসেট বিদ্যমান।

IMEI হলো একটি ১৫ সংখ্যার অনন্য কোড যা প্রতিটি মোবাইল ফোনকে শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। এটি ফোন চুরি হলে ট্র্যাক করতে, ফোনের বৈধতা যাচাই করতে এবং নেটওয়ার্ক নিবন্ধনের কাজে সহায়ক।

আমিনুল হক বলেন, IMEI ক্লোন (নকল) করে অবৈধ ফোনগুলো দেশের বাজারে ছাড়া হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০১৮ সালে যখন ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তখন এটি কার্যকর করা গেলে বর্তমান পরিস্থিতি এতটা জটিল হতো না।

মোবাইল ব্যবহার করে সংঘটিত আর্থিক অপরাধের অনেক ক্ষেত্রে ক্লোন হ্যান্ডসেটের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে তিনি জানান। নিরাপত্তার স্বার্থে এই ক্লোন হ্যান্ডসেট বন্ধ করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাজধানীর রাওয়া কমপ্লেক্সে ‘বৈধ ও নিরাপদ হ্যান্ডসেট ব্যবহারে NEIR-এর গুরুত্ব’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (TRNB)। TRNB-এর সভাপতি সমীর কুমার দের সঞ্চালনায় সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন TRNB সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন দেওয়ান।

বিটিআরসির তথ্য তুলে ধরে আল আমিন দেওয়ান জানান, কয়েক মাস আগের হিসাব অনুযায়ী দেশের চার মোবাইল ফোন অপারেটরের নেটওয়ার্কে ১৯ লাখ ৭৬ হাজার আইফোন সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ফোন বিটিআরসির ‘নক অটোমেশন অ্যান্ড IMEI ডেটাবেস’ (NAID) সিস্টেমে বৈধ আমদানিকারক বা বৈধ পথে আসা হিসেবে নিবন্ধিত নয়, অর্থাৎ অবৈধ। সাম্প্রতিক হিসাবে এই সংখ্যা ২১ লাখের কাছাকাছি হতে পারে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, দেশের চার মোবাইল ফোন অপারেটরের নেটওয়ার্কে ২ কোটি ৩১ লাখ ২৯ হাজার স্যামসাং ব্র্যান্ডের মোবাইল হ্যান্ডসেট সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ৪৯ লাখ ২৬ হাজার হ্যান্ডসেট বিটিআরসি কর্তৃক অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে দেশে বৈধ-অবৈধ ফোনের অনুপাত আগের মতোই রয়েছে।

বিটিআরসির কমিশনার মাহমুদ হোসাইন আশ্বস্ত করেছেন যে, আগামী ১৬ ডিসেম্বর NEIR চালু হলে এসব ফোন বন্ধ হবে না। তিনি বলেন, ১৬ ডিসেম্বরের আগে পর্যন্ত যে ফোনগুলো নেটওয়ার্কে ব্যবহার হবে, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে এবং সচল থাকবে।

তিনি আরও জানান যে, NEIR চালু হওয়ার পর দেশে মোবাইল ফোনের দাম যেন না বাড়ে, সে বিষয়ে বিটিআরসি সতর্ক রয়েছে। বাজারে কোন স্মার্টফোনের বাজারদর কত, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ হ্যান্ডসেটের দাম বাড়াতে না পারে।

সেমিনারে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (CID) অতিরিক্ত ডিআইজি জাহিদুল ইসলাম বলেন, দেশে চুরি বা ছিনতাই হওয়া মোবাইল সেটগুলো আখাউড়া, বটুলি, বেনাপোল ও দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার হচ্ছে। এর বিপরীতে, ভারত থেকে চুরি হওয়া ফোন বাংলাদেশে আসছে। এছাড়া, পুরোনো ফোনের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে সেকেন্ডহ্যান্ড ফোনের বাজার বেড়েছে, যা হারানো সেট উদ্ধারকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *