বিমানবন্দরে লাগেজ চুরি: কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
* সৌদি আরব থেকে আসা এক প্রবাসী বাংলাদেশির লাগেজ কাটাছেঁড়া এবং মালামাল চুরির ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
* ঘটনাটি গত ১৪ নভেম্বর ঘটেছিল, তবে ভিডিওটি সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে।
* বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আউট পাসপ্রাপ্ত যাত্রীদের লাগেজ নিয়ে এ ধরনের সমস্যা প্রায়ই হচ্ছে।
* কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে এবং প্রাথমিক ধারণায় সৌদিতে থাকাকালীন এটি ঘটতে পারে বলে উল্লেখ করেছে।
**বিস্তারিত প্রতিবেদন:**
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে সৌদি আরব ফেরত এক প্রবাসী বাংলাদেশির লাগেজ কাটাছেঁড়া এবং মালামাল চুরি হওয়ার ঘটনা দেখা গেছে। এই ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, কাটা লাগেজ হাতে নিয়ে কয়েকজন যাত্রী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কর্মীদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভিডিওটি সম্প্রতি ভাইরাল হলেও ঘটনাটি গত ১৪ নভেম্বর তারিখে ঘটেছিল। ওইদিন সৌদি আরব থেকে আউট পাস নিয়ে আসা ৭৯ জন বাংলাদেশি নাগরিক ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ET-618 ফ্লাইটে ঢাকায় অবতরণ করেন। ইমিগ্রেশনসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর আগমনী এক নম্বর বেল্ট এলাকায় নিজেদের লাগেজ সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা দেখতে পান যে অধিকাংশ ব্যাগের ওপরের অংশ কাটা এবং ভেতরের মালামাল অনুপস্থিত। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে যাত্রীরা ভিডিও রেকর্ড করার সময় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের কর্মীদের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিভিন্ন কারণে আটক থাকার পর আউট পাসপ্রাপ্ত এই যাত্রীরা সৌদি ইমিগ্রেশনের ব্যবস্থাপনায় ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ইটি-৬১৮ ফ্লাইটে সৌদি আরব থেকে আদ্দিস আবাবা হয়ে ঢাকায় পৌঁছান।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্প্রতি এই ধরনের লাগেজ কাটা ও মালামাল হারানোর ঘটনা বারবার ঘটছে এবং তারা বিষয়টি ইতোমধ্যে সৌদি কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছে। এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে যে, আউট পাস যাত্রীদের ক্ষেত্রে মাথাপিছু গড়ে ১৫ কেজি হিসেবে সকল মালামাল একত্রে বুকিং করা হয়। এই কারণে কোন ব্যাগে কার মালামাল ছিল তা নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয় না। এছাড়াও, সৌদি ইমিগ্রেশন পুলিশ অনেক মালামাল জব্দ করে থাকে, যার তালিকা এয়ারলাইন্সকে দেওয়া হয় না। এর ফলে দেশে পৌঁছানোর পর এই ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাগেজ হ্যান্ডলিং এলাকাগুলো সিসিটিভির আওতায় আসার পর সাধারণ যাত্রীদের ব্যাগেজ চুরির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তবে, আউট পাস যাত্রীদের ব্যাগেজে মালামাল চুরি বা হারানোর অভিযোগ এখনও বেশি পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে যে, এই ব্যাগগুলো সৌদিতে অবস্থানকালে কোনো ব্যক্তি বা এজেন্সির মাধ্যমে চুরি বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
