**মধুপুর ফল্ট: টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভূমিকম্প ঝুঁকি**
* সম্প্রতি দেশজুড়ে ভূমিকম্পের পর টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্ট (Madhupr Fault) নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
* বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘মধুপুর ফল্ট’ একটি সক্রিয় ফল্ট এবং এটি ৭ থেকে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের জন্ম দিতে পারে।
* এই ফল্টটির কারণে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, গাজীপুর এবং ঢাকা অঞ্চলসহ দেশের একটি বিশাল অংশ উচ্চ ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে।
* ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশেষজ্ঞরা।
* ভূমিকম্প প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
**ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে ‘মধুপুর ফল্ট’, শঙ্কিত টাঙ্গাইলবাসী**
সম্প্রতি রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে দফায় দফায় ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর টাঙ্গাইলের মধুপুর অঞ্চলে অবস্থিত ‘মধুপুর ফল্ট’ (Madhupr Fault) নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফল্টটি একটি সক্রিয় ভূমিকম্পন বলয় এবং এটি উচ্চ মাত্রার ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে, যা দেশের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে।
দেশে তিনটি প্রধান ভূমিকম্পন বলয় রয়েছে, যার মধ্যে মধুপুর অঞ্চলটি অন্যতম। ‘মধুপুর ফল্ট’ নামে পরিচিত এই ভূতাত্ত্বিক ফাটল রেখাটির কারণে টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্চ মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এই ফল্ট সক্রিয় হলে রাজধানী ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ এবং গাজীপুরসহ বিস্তৃত অঞ্চলে ব্যাপক হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় ‘মধুপুর ফল্ট’ নিয়ে আলোচনায় অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে।
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যার কিছু উৎপত্তিস্থল ছিল টাঙ্গাইলের মধুপুর। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে টাঙ্গাইলে ৪.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল এই মধুপুর। সেই সময় মধুপুর উপজেলার গড় এলাকার বোকারবাইদ গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে প্রায় আধা মাইল দীর্ঘ একটি ভূ-ফাটল দেখা দিয়েছিল, যার গভীরতা ছিল ১৫ থেকে ২০ ফুট।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর মধুপুর শাখার সভাপতি শহিদুল ইসলাম শহীদ জানিয়েছেন, ‘মধুপুর ফল্টে ৬ থেকে সাড়ে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হলে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও ঢাকা অঞ্চলে প্রায় ১ কোটি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।’
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. জানে আলম বলেছেন, “ভূমিকম্পের জন্য টাঙ্গাইলের উত্তর অংশ রেড জোনে রয়েছে। আমরা ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি উদ্ধারে আমাদের প্রস্তুতি জোরদার করেছি এবং কমিউনিটি ভলান্টিয়ার প্রস্তুত করছি।”
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনভারমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্স অ্যান্ড সাইন্সের অধ্যাপক মীর মো. মোজাম্মেল হক বলেন, “মধুপুর ফল্ট যে কোনো সময় সক্রিয় হতে পারে। এই ফল্টে ৬ থেকে সাড়ে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হলে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও ঢাকার বিস্তীর্ণ অংশে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং এতে প্রায় ১ কোটি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। ভূমিকম্প রোধে আমাদের সচেতন হতে হবে।”
এ বিষয়ে মধুপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন জানিয়েছেন, “স্থানীয়দের সচেতনতার জন্য দ্রুতই মহড়ার আয়োজন করা হবে।” সরকারের পক্ষ থেকে ভূমিকম্প সংক্রান্ত সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
