শিরোনাম: পিরোজপুরে নারীসহ দুজনকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে চাঁদা দাবি

**শিরোনাম:** পিরোজপুরে নারীসহ দুজনকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে চাঁদা দাবি

**সারসংক্ষেপ:**

* পিরোজপুরের নাজিরপুরে এক নারী ও এক ব্যক্তিকে বিবস্ত্র করে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ভিডিও ধারণ ও পরে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে পাঁচজনের একটি চক্রের বিরুদ্ধে।
* অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা পূর্বশত্রুতার জেরে ভুক্তভোগীদের পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে মারধর ও ভিডিও ধারণ করে।
* তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে বাকি অর্থ না দিলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
* ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন।
* ভুক্তভোগীর ভাশুরের ছেলে বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে নাজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

**পূর্ণাঙ্গ সংবাদ:**

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ২ নম্বর মালিখালী ইউনিয়নের মিঠারকুল গ্রামে এক নারী (৩৫) এবং পঞ্চাশোর্ধ এক ব্যক্তিকে বিবস্ত্র করে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালিয়ে ভিডিও ধারণ ও পরে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে হেলাল সিকদারসহ পাঁচজনের একটি চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর স্বামীর অনুপস্থিতিতে ফোরকান মোল্লা নামের এক পরিচিত ব্যক্তি তার বাড়িতে এলে অভিযুক্তরা পূর্বশত্রুতার জেরে ঘরে ঢুকে তাদের পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে বিবস্ত্র করে মারধর করে এবং ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে তারা ভুক্তভোগীদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না থাকায় তাদের ঘরে থাকা আনুমানিক দুই লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। বাকি টাকা না দিলে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেয় অভিযুক্তরা।

ভুক্তভোগীরা বারবার কাকুতি-মিনতি করলেও তারা রক্ষা পাননি। সম্প্রতি নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই গৃহবধূ ও এক ব্যক্তিকে বিবস্ত্র করে বুকের ওপর পা দিয়ে চেপে ধরে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তারা চিৎকার করলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

পরে ভিডিওটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগীরা চরম সামাজিক লাঞ্ছনার শিকার হন এবং এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। মোবাইল ফোনে ভুক্তভোগী নারী জানান, ‘তারা ষড়যন্ত্র করে আমার মানসম্মান নষ্ট করেছে। আমি বাড়িছাড়া।’

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগী নারীর ভাশুরের ছেলে টুটুল সিকদার (৩২) বাদী হয়ে নাজিরপুর থানায় হেলাল সিকদারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযুক্তরা হলেন— হেলাল সিকদার (৩৫), মিলন সিকদার (৩৮), দেলোয়ার ওরফে দেলাল সিকদার (৩০), নান্নু সিকদার (৩৪) ও মামুন সিকদার (২৭)। তারা সবাই মৃত সাহেব আলী সিকদার ও মৃত মকবুল সিকদারের ছেলে এবং একই গ্রামের বাসিন্দা।

এ বিষয়ে নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহামুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া কালবেলাকে জানান, একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। অভিযুক্ত হেলাল সিকদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *