মানসিক চাপ কমাতে সকালের ছোট অভ্যাস

**মানসিক চাপ কমাতে সকালের ছোট অভ্যাস**

* মানসিক চাপ কমাতে প্রতিদিনের জীবনে বড় কোনো পরিবর্তন আনার প্রয়োজন নেই।
* সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কয়েকটি মিনিট নিজের জন্য রাখলে সারাদিন শান্ত ও মনোযোগী থাকা যায়।
* ঘুম ভাঙার পর তাড়াহুড়ো করে ফোন দেখা বা কাজ শুরু করা মস্তিষ্কে অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করে।
* ধীরে ধীরে ঘুম থেকে ওঠা, ৫-১০ মিনিট নীরবে বসা, হালকা স্ট্রেচিং বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
* আলফা ও থিটা মস্তিষ্কের তরঙ্গগুলো শান্ত ও সচেতন অবস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা সকালের ধীর শুরু থেকে পাওয়া যায়।

**মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক সকালের অভ্যাস**

বর্তমান জীবনে মানসিক চাপ একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মব্যস্ততা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সময়ের অভাব মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। নিউরোসায়েন্টিস্টদের মতে, মানসিক চাপ কমানো দিনের শুরু থেকেই সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালে মাত্র কয়েক মিনিট নিজের জন্য রাখলে তা সারাদিন মনকে হালকা, শান্ত এবং মনোযোগী রাখতে সাহায্য করে। ভারতীয় নিউরোসায়েন্টিস্ট ডা. শ্বেতা আদাতিয়া জানান, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের জীবনযাপনে পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। বরং, ঘুম থেকে ওঠার ধরন পরিবর্তন করাই দৃশ্যমান উপকারিতা বয়ে আনতে পারে। তিনি বলেন, দিনের শুরু যেভাবে হয়, মস্তিষ্কও সারাদিন সে অনুযায়ী কাজ করে।

ডা. আদাতিয়া আরও জানান, ঘুম থেকে উঠেই তাড়াহুড়ো করা, তাৎক্ষণিকভাবে ইমেইল চেক করা বা কাজ শুরু করে দেওয়া মস্তিষ্কের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করে। তাই, ঘুম ভাঙার পর অন্তত কয়েক মিনিট নিজের জন্য সময় দেওয়া উচিত। এই ধীর প্রক্রিয়া মস্তিষ্ককে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে সাহায্য করে। তিনি উল্লেখ করেন, মাত্র ৫ থেকে ১০ মিনিট নীরবে বসা, হালকা স্ট্রেচিং অথবা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এক্ষেত্রে যথেষ্ট।

**তাড়াহুড়ো করে দিন শুরু করার ক্ষতিকর প্রভাব**

মনোবিদ গুরলিন বারুয়ার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে কর্টিসল হরমোন স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, যা আমাদের সতর্ক হতে সাহায্য করে। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই যদি আমরা কোনো কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, তাহলে স্নায়ুতন্ত্র হঠাৎ অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে পড়ে। এর ফলে, মস্তিষ্ক নিজের ভারসাম্য ফিরে পাওয়ার সুযোগ পায় না, যা বিরক্তি, ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব এবং এমনকি বার্নআউট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। দীর্ঘ সময় ধরে এমন চললে মানসিক চাপ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

**আলফা ও থিটা অবস্থার গুরুত্ব**

ডা. আদাতিয়া জানিয়েছেন, আমরা যখন ঘুম ও জাগরণের মাঝামাঝি থাকি, তখন আলফা ও থিটা মস্তিষ্কের তরঙ্গ সক্রিয় থাকে।

* **আলফা অবস্থা:** এটি একটি শান্ত অথচ সচেতন অবস্থা, যা হালকা মেডিটেশন বা স্বপ্নময় চিন্তাভাবনার সময় অনুভূত হয়।
* **থিটা অবস্থা:** এটি গভীর সৃজনশীলতা ও চিন্তনের অবস্থা, যা ঘুম ও জাগরণের মধ্যবর্তী মুহূর্তে ঘটে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সকালে ধীরগতিতে ওঠা, নীরবে বসা বা স্ক্রিন ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এই অবস্থাগুলো বজায় রাখতে সহায়তা করে। এর ফলে মানসিক স্বচ্ছতা বাড়ে, মন শান্ত থাকে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা উন্নত হয়।

**সকালকে সহজ করার কিছু কার্যকর অভ্যাস**

* ঘুম থেকে উঠে সঙ্গে সঙ্গে ফোন ব্যবহার না করা।
* কয়েক মিনিট হালকা স্ট্রেচিং করা।
* হালকা জার্নালিং বা দিনের পরিকল্পনা লিখে রাখা।
* কয়েক মিনিট রোদে বসা।
* বক্স ব্রিদিং (৪ সেকেন্ড শ্বাস নেওয়া, ৪ সেকেন্ড ধরে রাখা, ৪ সেকেন্ড শ্বাস ছাড়া, ৪ সেকেন্ড ধরে রাখা) অনুশীলন করা।
* ছোট গাইডেড মেডিটেশন করা।

গুরলিন বারুয়ার মতে, এই ছোট বিরতিগুলি স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং মানসিক চাপ ‘রিসেট’ করার সুযোগ দেয়। দিনের শুরুটা ধীরে ও সচেতনভাবে করলে, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করলে এবং জেগে ওঠার পর নিজের শরীরকে সময় দিলে সারাদিনের মানসিক চাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *